গতকাল শুক্রবার ছিল বইমেলা শুরুর দ্বিতীয় দিন আর মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম শুক্রবার। প্রথম ছুটির দিনে পাঠক দর্শনার্থীতে লোকারণ্য ছিল মেলা। সকালে শিশু কিশোরদের কলকাকলীতে মেলা মুখরিত থাকলেও বিকেলে ছিল সব শ্রেণী-পেশার মানুষের ভিড়।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশের আটটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ দিয়ে পাঠক-দর্শনার্থীরা কোনো বিড়ম্বনা ছাড়াই আসা-যাওয়া করছেন। তবে মেট্রোরেল স্টেশনের কারণে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে একটি বের হওয়ার পথে। বাংলা একাডেমির দিকে বের হওয়ার পথটিকে এবার একটু সরিয়ে রমনা মন্দির গেটের কাছাকাছি নেয়া হয়েছে।
মেলা মাঠে অসমাপ্ত স্টলের কাজ চলায় ছড়িয়ে থাকা নির্মাণসামগ্রীর কারণে আগতদের মধ্যে বিরক্তিও ছিল। বিশেষ করে শিশুচত্বরের বেশির ভাগ স্টল গোছানো থাকলেও সামনের মাঠ অনেকটাই উঁচুনিচু। কোথাও কোথাও ছিল ছোট ছোট গর্ত।
মেলার দ্বিতীয় দিন গতকালের সকালটা ছিল শিশুদের। ১১টা থেকে ১টা শিশুপ্রহরে প্রাণখুলে ছুটে বেড়িয়েছে শিশুরা। আর প্রতিবারের মতো এবারো বইমেলার শিশুপ্রহরের মূল আকর্ষণ ছিল সিসিমপুরের জনপ্রিয় চরিত্র হালুম, টুকটুকি, ইকরি, শিকু। এ সময় সন্তানকে নিয়ে মেলায় আসা অভিভাবকরা শিশু চত্বরের বিভিন্ন স্টলে গিয়ে বই কেনেন। তবে মেলার প্রথম শিশুপ্রহরে শিশু ও অভিভাবকদের আশানুরূপ উপস্থিতি ছিল না বলে জানিয়েছেন শিশু চত্বরের বিক্রয় কর্মীরা। আজ শনিবারও শিশুপ্রহরে বেলা ১১টা থেকে বেরা ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুদের জন্য।
এর আগে বেলা সোয়া ১১টায় মেলার শিশুচত্বরে সিসিমপুর মঞ্চ উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিসিম ওয়ার্কশপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম, বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কে এম মোজাহিদুল ইসলাম।
নূরুল হুদা বলেন, এবার আমরা বইমেলার স্লোগান রেখেছি- ‘পড় বই গড়ো দেশ/বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। এই বাক্যটির সাথে আরেকটি বাক্য বলব- সেটি হলো ‘বিশ্বজোড়া বিশ্বদেশ’। আমরা বই পড়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ গড়তে চাই। সেই সাথে বিশ্বের সুনাগরিক হতে চাই। বাংলাদেশ ও সৃজনশীলতা চিরজীবী হোক।’
এরপরই বেলা বাড়ার সাথে সাথে মেলায় মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এ সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের টিএসসি সংলগ্ন গেটসহ সব গেটেই মানুষের লাইন পড়ে যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষ আলাদাভাবে ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে শুরুতেই পড়তে হচ্ছে পুলিশের নিরাপত্তা তল্লাশিতে। মেলায় আসা পাঠক-দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বরাবরের মতোই মূল ফটকের সামনে অনুসন্ধান- ঘোষণা বুথ এবং মেলার ম্যাপ রাখা হয়েছে। এরপর ভেতরের দিকে বিস্তৃত হয়েছে প্যাভিলিয়ন, স্টল ও লিটলম্যাগ।
অপর দিকে ব্যাপক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করতে দেখা গেছে পুলিশ, ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।
মেলায় এসেছে সুকান্ত-রচনাবলি, দ্য টাও অব ফিজিকস (ফ্রিটজফ কাপরা), আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান না প্রাচ্যের ধর্ম। এর অনুবাদ করেছেন আসাদ ইকবাল মামুন। বখতিয়ার, বঙ্গ বিজয়ের নিপুণ নায়ক। আফতাব হোসেন। বইগুলো প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য প্রকাশনী।
গতকাল বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ : মহাকবি আলাওল’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইমন জাকারিয়া। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মিল্টন বিশ্বাস ও মোহাম্মদ শেখ সাদী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো: আবুল কাসেম।